শ্বাসকষ্ট হওয়ার একাধিক কারণ
দি নিউজ লায়ন; দিন দিন করোনার দাপট বেড়েই চলেছে। আর এই রোগের ফলে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। তবে শ্বাসকষ্ট হলেই যে তা করোনা এমনটা নয়। বহু কারনেই হতে পারে শ্বাসকষ্ট। যেমন-
১। হৃদপেশির পাম্প করার ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কমে গেলে ফুসসুসে রক্ত জমতে থাকে। ফলে ফুসফুসকে অনমনীয় করে দেয়। তখন শ্বাস নিতে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। তখনও শ্বাসকষ্ট হয়।
২। হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা হার্টের রোগ এবং তার থেকে হাঁপানির কারণে শ্বাসকষ্ট হয়।
৩। অনেকের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা অনুভব হয়, তখনও শ্বাসকষ্ট হয়।
৪। কোনো দুঃশ্চিন্তার কারণে রুদ্ধশ্বাস হয়ে থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় শ্বাস নেওয়া কম হয়। তার জন্য রক্তের কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে শ্বাসকষ্টের অনুভূতি হয়।
৫। অনেক শ্বাসকষ্টের কারণ হল হাঁপানি। এই হাঁপানির কারণ শ্বাসনালি অর্থাৎ ফুসফুসে হাওয়া ঢোকা বেরোনোর পথ সরু হয়ে যাওয়া। তার জন্য জোরে জোরে শ্বাস নিতে হয়।
৬। অনেক সময় হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনের তুলনায় কম রক্তপ্রবাহ হয়। তার কারণে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পায়। তখন শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়।
৭। এ ছাড়া জ্বর ও আরও কয়েকটি শারীরিক রোগেও হাত পা জ্বালা করে, মেটাবলিজম বেড়ে যায়। তখনও নিঃশ্বাসের হার বেড়ে যায়।
৮। বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাইপারভেন্টিলেশন সিন্ড্রোমের কারণ খুব স্পষ্ট নয় ঠিকই তবে এই সমস্যার সঙ্গে উৎকণ্ঠা ও এক প্রকার ভয় পাওয়া রোগ অর্থাৎ প্যানিক ডিসঅর্ডারের যোগ আছে। সে ক্ষেত্রে এই শ্বাসকষ্টটি এক অর্থে মনের রোগ। এ রোগের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রয়োজনের থেকে বেশি করে শ্বাস নেওয়া হয়। ফলে রক্তের কার্বন-ডাই-অক্সাইড শ্বাসের সঙ্গে বেশি মাত্রায় বেরিয়ে যায়। ফলে রক্তে ক্ষারের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। উৎকণ্ঠা এবং ভয়ের সময় প্রায় ২৫% থেকে ৮৩% ক্ষেত্রে এ রকমের শ্বাসকষ্ট হয়। এই শ্বাসকষ্টের কোনো শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
৯। আবার ১১% ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যা ও শারীরিক কারণ ছাড়াই শ্বাসের এক ধরনের কষ্ট হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে হয়। দেখা যায় যে, পুরুষদের চেয়ে মহিলারা এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়।

Post a Comment